চিড়িয়া খানা ভ্রমণ ২০১৬
চিড়িয়াখানা ভ্রমণ – মিরপুর, ঢাকা ।
ছবি: মাসুদ-উন-নবী
চাকুরির ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য ঢাকায় মিরপুর-১ এ আমার এক চাচার মেসে উঠেছিলাম। সেখানেই চিড়িয়াখানা ভ্রমণ করার খুব ইচ্ছা জাগলো।
মিরপুর, ঢাকা তে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা। আগে অবশ্য এটার নাম ছিল ঢাকা চিড়িয়াখানা। ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নাম পরিবর্তন করে ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা নামকরণ করা হয়।
একনজরে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা
ভ্রমণ স্থানের নামঃ বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা অবস্থানঃ মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ স্থাপিতঃ ২৩শে জুন, ১৯৭৪ উদ্বোধনঃ ২৩শে জুন, ১৯৭৪ আয়তন ১৮৬ একর প্রাণীর সংখ্যা ২১৫০ প্রজাতির সংখ্যা ১৯১ বার্ষিক পরিদর্শক ৩,০০০,০০০
| ভ্রমণ স্থানের নামঃ | বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা |
| অবস্থানঃ | মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ |
| স্থাপিতঃ | ২৩শে জুন, ১৯৭৪ |
| উদ্বোধনঃ | ২৩শে জুন, ১৯৭৪ |
| আয়তন | ১৮৬ একর |
| প্রাণীর সংখ্যা | ২১৫০ |
| প্রজাতির সংখ্যা | ১৯১ |
| বার্ষিক পরিদর্শক | ৩,০০০,০০০ |
তথ্যসূত্র – উইকিপিডিয়া
সময়সূচীঃ
রবিবার সাপ্তাহিক বন্ধ সোমবার ০৯:০০–১৮:০০ মঙ্গলবার ০৯:০০–১৮:০০ বুধবার ০৯:০০–১৮:০০ বৃহস্পতিবার ০৯:০০–১৮:০০ শুক্রবার ০৯:৩০–১৯:০০ শনিবার ০৯:০০–১৮:০০
| রবিবার | সাপ্তাহিক বন্ধ |
| সোমবার | ০৯:০০–১৮:০০ |
| মঙ্গলবার | ০৯:০০–১৮:০০ |
| বুধবার | ০৯:০০–১৮:০০ |
| বৃহস্পতিবার | ০৯:০০–১৮:০০ |
| শুক্রবার | ০৯:৩০–১৯:০০ |
| শনিবার | ০৯:০০–১৮:০০ |
ভ্রমণের প্রস্তুতিঃ
আমি বাংলাদেশ মৃত্তিকা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট-এ চাকুরির ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষে করে বাসে উঠে পড়লাম। তারপর আমার চাচাকে মোবাইল করলাম চিড়িয়াখানা যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য। আমি মিরপুর-১ এ এসে চাচাকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি চিড়িয়াখানায় গেলাম।
ভ্রমনের দিন
ভ্রমনের দিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে গোসল করে ভাইভার প্রস্তুতি নিয়ে বাংলাদেশ মৃত্তিকা উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে গেলাম।
ভাইভা শেষে সরাসরি চিড়িয়াখানায় গেলাম।
চিড়িয়াখানা ভ্রমণ
আমরা ১ ঘন্টার মধ্যে চিড়িয়াখানা চলে আসলাম। এসে একটা ব্যাপার লক্ষ্য করলাম যে, এর আগে আমি যতবারই এখানে এসেছি কখনো আজকের মত এতো মানুষ দেখিনি!
আজকের দিনে প্রচুর দর্শনার্থী হয়েছে। আমরা বাস থেকে নেমে কিছুটা হেটে টিকিট কাউন্টারে চলে আসলাম। টিকিট এর দাম বাড়ার কথা থাকলেও এখনো তারা টিকিট এর দাম বাড়ায়নি।
২টা টিকিট কেটে আমরা চিরিয়াখানার ভিতরে প্রবেশ করার জন্য লাইনে দাঁড়ালাম।
চিড়িয়াখানার দিকে মুখ করে দাঁড়ালে আপনার হাতের ডান পাশেই দেখতে পাবেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান। যেটা বোটানিক্যাল গার্ডেন নামেও পরিচিত।
চিড়িয়াখানা ভিতরে ঢুকেই যা দেখলাম
চিড়িয়াখানা ভিতরে ঢুকেই যা দেখলাম তা হল, গাছ! হুম গাছ। প্রচুর গাছপালা আছে চিড়িয়াখানাতে।
চিড়িয়াখানা ঢুকে সোজা গেলে প্রথমে চোখে পড়বে বানরের খাঁচা। সাথে পুরো চিড়িয়াখানার ম্যাপ এবং কিছু নির্দেশনা।
ছবিঃ আমিনুল ইসলাম
প্রাণীদের খাবার দিবেন না। খাঁচার একেবারে কাছে যাবেন না… ব্লা ব্লা…
আর, চিড়িয়াখানা ঢুকেই আপনি যদি হাতের বা দিকে যান, তাহলে এদিক দিয়ে রয়েছে পুরুষ ও মহিলাদের টয়লেট, কিছু খাবারের দোকান।
এরি মাঝে মোবাইলের রিংটন টা বেজে উঠল। কামরুল মামা কল দিয়ে জানালেন মামা এবং তার এক ফ্রেন্ড আসছেন চিড়িয়াখানায়! সময় লাগবে ৫ মিনিট এর মত।
শুনেই ভালো লাগল। যাক, একসাথে সবাই মিলে মজা করে ঘুরা যাবে।
চিড়িয়াখানা এর ভিতরে ঘুরা শুরু করবেন যেভাবে
প্রথমে কিছু নির্দেশনাবলীঃ
- চিড়িয়াখানার ঘুরার জন্য চিড়িয়াখানা ঢুকে প্রথমে সোজা যাবেন। একটু সামনে গেলেই দেখতে পাবেন পুরো চিড়িয়াখানার একটি বড় ম্যাপ রয়েছে। সাথে দেখতে পাবেন সামনেই একটি বানরের খাঁচা। বানরের সাথে দেখা করার পর আপনি হাতের বা দিকে যাবেন।
- হাতের বা দিক দিয়ে ঘুরতে ঘুরতে আপনি আস্তে আস্তে ডান দিকে যাবেন। এভাবে করেই আপনার পুরো চিড়িয়াখানা ঘুরা শেষ করবেন। চিড়িয়াখানাও এই নিয়ম টা ই দিয়েছে। যাতে আপনি পুরো চিড়িয়াখানার সব গুলো প্রানির দেখা পান।
- চিড়িয়াখানার প্রাণীদের খাবার দেয়া থেকে বিরত থাকুন।
- হিংস্র প্রানি যেমনঃ বাঘ, সিংহ, সাপ এসব প্রাণীদের খাঁচা থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখুন।
- আপনার সাথে যদি ছোট বাচ্চা থাকে তাহলে, তাদেরকে সব সময় কাছে রাখুন। প্রয়োজনে হাত ধরে রাখুন। কারন, চিড়িয়াখনা অনেক বড় এবং সবসময় এখানে প্রচুর মানুষের সমাগম থাকে। একবার যদি আপনার বাচ্চা কে হারিয়ে ফেলেন, তাহলে তাকে খুজে পেতে অনেক সময় লাগবে। এর ফলে আপনার আনন্দ ভ্রমন নিরানন্দ হয়ে যাবে।
- আর যদি, এরকম সমস্যায় পড়েই যান। তাহলে ঘাবড়ানর কিছু নেই। কারন, চিড়িয়াখানার ভিতরে একদল সদস্য রয়েছে, যারা আপনার সহযোগিতা করার জন্য রেডি হয়ে থাকে সবসময়। আপনি ভিতরে চুকলেই তাদের মাইকের শব্দ পাবেন।
- চিড়িয়াখানা ঢুকার পূর্বে সাথে পানি এবং শুঁকন খাবার নিয়ে নিন। কারন, এতো বড় চিড়িয়াখানা ঘুরতে ঘুরতে আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন। তাছাড়া, উচু নিচু যায়গা দিয়েই আপনাকে ভ্রমন করতে হবে।
- যতটা সম্ভব খোলামেলা জামাকাপড় পড়ে চিড়িয়াখানা যাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে ক্লান্তি কম লাগবে।
- ভ্রমন উপযোগী জুতা পরার চেষ্টা করুন।
- সবসময় আপনার মানিব্যাগ এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আপনার হেফাজতে রাখুন।
চলুন চিড়িয়াখানা ভ্রমন শুরু করা যাক
হাতের বা দিক দিয়ে গেলে এক এক করে দেখতে পাবেন গণ্ডার, গরিয়াল, হরিন, গয়াল, হাতি, জিরাফ ইতাদি প্রানির খাঁচা। আপনি কম সময় নিয়ে সব প্রানি দেখার জন্য দ্রুত হাটবেন না। এতে আপনি দ্রুতই ক্লান্ত হয়ে পড়বেন।
ছবিঃ মোঃ মাসুদ-উন-নবী
হাটতে হাটতে সবচেয়ে বেশি ভীড় দেখতে পাবেন জিরাফ এর খাচার দিকে। আমি যতবারই চিড়িয়াখানায় গিয়েছি, ততবারই এই বিষয়টা লক্ষ্য করেছি।
আমি প্রথম চিড়িয়াখানা এসেছিলাম আমার চাচা (জাকির হোসেন) এর হাত ধরে। তখন আমার বয়স আনুমানিক ৭ কি ৮ বছর। আমি আমার মেঝো ভাই মোয়াজ্জেম হোসেন কে চাচা এখানে ঘুরতে নিয়ে এসেছিলেন।
বাঘ এবং সিংহের খাঁচা
বাঘ এবং সিংহের খাঁচা রয়েছে চিড়িয়াখানার একেবারে শেষের দিকে। আপনি সাপ এর সাথে দেখা করে একটু সামনে এগিয়ে দেখতে পাবেন বেশ বড় হরিন এর খাঁচা। হরিন এর খাচার পাশদিয়ে বা দিকে গেলেই দেখতে পাবেন বিশাল এর ঝিল। তার ডান পাশেই বাঘ এবং সিংহের খাঁচা।
এরপর আবারো হরিনের খাঁচা।
আপনি ঠিকমত সবগুলো খাঁচায় ঘুরলে আপনার প্রায় ১ দিন সময় লেগে যাবে।
হরিণ এর খাঁচার পাশেই ছোট ছোট টুল রয়েছে। ক্লান্ত বোধ করলে কিছুক্ষন বিশ্রাম নিয়ে নিতে পারেন।
প্রাণী জাদুঘর
চিড়িয়াখানা এর ভিতরেই রয়েছে প্রাণী জাদুঘর। এখানে আপনি ঘোড়ার ডিম থেকে শুরু করে হাজার বছর পুরনো কচ্ছপ দেখতে পাবেন। এছাড়াও নানা প্রজাতির সাপ ও অন্যান্য প্রানি রয়েছে এই প্রাণী জাদুঘরে।
প্রাণী জাদুঘর এ ঢুকার জন্য আপনাকে আলাদা করে টিকিট নিতে হবে।
প্রাণী জাদুঘর-এ রক্ষিত প্রাণীগুলোর মমি দেখে খুব অবাক লাগলো।
এবার ফেরার পালা। যদিও আসতে কিছুতেই মন চাচ্ছিলো না। কিন্তু কি আর করার ফিরতে তো হবেই।
অন্য একদিন আসার মনবাসনা করে বিদায় নিলাম।
আমার মোবাইল নম্বরঃ ০১৭১৪৬৯৩৪১৯
আমার সোসাল মিডিয়া প্রোফাইল লিংক:






Comments
Post a Comment