পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত ভ্রমন :

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত। ছবি:সোহেল রানা।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত ভ্রমন :

আমি সর্বপ্রথম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সম্রাট সাজাহান ভাই ও ছোট ভাই সোহেল রানার প্রতি। কারণ এই দুইজন ব্যক্তির জন্য আমি পতেঙ্গা সমুদ্রের অপরূপ দৃশ্য দেখার সুযোগ হয়েছিল। তোমাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমি আশা করি আবারো কোনে একদিন অন্য কোনো অপরূপ দৃশ্য দেখার জন্য আমরা তিনজন অন্য কোনো নতুন জায়গায় দেখতে যাবো।


পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এমন একটা জায়গা, সপ্তাহের যে কোন দিনই সেখানে মানুষের সমাগম দেখা যায়। শহরের কাছেই অল্প দূরত্বে এরকম একটি সমুদ্র সৈকত থাকার কারণে চট্টগ্রামের মানুষ সুযোগ পেলেই চলে আসেন এখানে। বাইরে থেকে যারা চট্টগ্রামে বেড়াতে আসেন, তারাও চেষ্টা করেন এখানে একবার ঘুরে যেতে।

 

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ আমি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গিয়েছিলা মহানগর এক্সপ্রেস-এ (ট্রেন)। বরাবরই আমার ট্রেন ভ্রমণ অনেক ভালো লাগে। আমার ট্রেন ভ্রমণ করতে অনেক মজা লাগে। তো খুব ভোরে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছালাম। আমি কিছুক্ষণ স্টেশনে বসে রইলাম কারণ তখনো অন্ধকার কাটেনি। যাইহোক চারদিকে যখন আলো তার আলোয় সব অন্ধকার দুর করে দিচ্ছে ঠিক তখনি বাসে উঠে বন্দরের দিকে রওয়ানা দিলাম। অবশ্য চট্টগ্রাম যাওয়া মূল উদ্দেশ্য হলো চট্টগ্রাম বন্দরে আমার চাকুরির স্বাক্ষাতকার ছিল। তো একদিন আগেই রওয়ানা দিলাম শুধুমাত্র পতেঙ্গা সমুদ্র দেখার প্রবল ইচ্ছার কারণে। এর আগে অবশ্য আমি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ও সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণ করেছিলাম। অবশেষে আমি আমার ফুফাতো ভাই সোহেল এর মেসে উঠলাম। সোহেল বাংলাদেশ নাবিক পরিদপ্তরে চাকুরি করত। আমি যখন সোহেল এর রুমে প্রবেশ করলাম আমিতো রীতিমতো অবাক। কারণ আমার একজন প্রিয় মানুষ প্রিয় বন্ধু সম্রাট সাজাহানকে দেখে। সম্রাট সাজাহান এর কিছুদিন আগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে চাকুরি হয়েছে। যাইহোক দুজন কে এক সাথে দেখে খুব ভালো লাগলো।

 

সকালে গোসল করে খেয়ে একটা ফ্রেশ ঘুম দিলাম। আর কখন বিকেল হবে সেই অপেক্ষায় রইলাম।

 

বিকেল ৩টায় আমরা তিনজন বের হলাম পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত দেখার উদ্দেশ্যে। আমরা একটা বাসে উঠে বসলাম। ৩০ মিনিট পর বাস দাঁড়ালো, আমরা নেমে হাটা শুরু করলাম। সামনে একটা মসজিদে আমি আসরের নামাজ পড়ে নিলাম। তারপর আবার সৈকতের দিকে হাঁটা শুরু করলাম। রাস্তার দুপাশে অনেক দোকান। তবে আমি সবচেয়ে বেশি খেয়াল করলাম সেখানে অনেক খাবার হোটেল বিভিন্ন প্রকার মজাদার খাবারের পসরা সাজিয়ে বসে আছে। আমি প্রতিটা দোকানে রান্না করা কাকড়া বেশি দেখলাম। অনেকে আবার মজা করে খাচ্চে। আমার রুচিতে বাধলো। যদিও আমি কখনো কাকড়া খাইনি। তাই বরাবরের মতো আমি এটা এড়িয়ে গেলাম।

 

কিছুক্ষণ পর আমরা সমুদ্র সৈকতে আসলাম। এখানে প্রচুর পরিমাণ লোক না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবেন। সাগর দেখে খুবই উচ্ছ্বসিত হলাম। সাথে সাথেই ছবি, সেলফি তোলার হিড়িক পড়ে গেল।

 

ছবিঃ সম্রাট সাজাহান

যতদুর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। সমুদ্রে অনেক জাহাজের আনাগোনা দেখলাম। সমুদ্র সৈকতের নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি দেখা গেল।

 

ছবিঃ সম্রাট সাজাহান

সমুদ্র সৈকতে ছোট-বড়, যুবক-বৃদ্ধ সব ধরণের মানুষ এসেছে। তো চারদিকে এত লোক আর সমুদ্রের গর্জন অনেক আনন্দ দিল। আমরা তিনজন প্রকৃতির এই অপরূপ দৃশ্য দেখে বিসমোহিত হলাম। অবশেষে সেই কাঙ্খিত সময়। সূর্যাস্ত দেখার জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতেছিলাম। আমি সেই সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখে চোখ ফেরাতে পারলামনা। ভাবলাম মহান আল্লাহ তায়ালা কত সুন্দর করে এই পৃথিবীটাকে সাজিয়েছেন শুধু আমাদের জন্য।

 

ছবিঃ মোঃ আমিনুল ইসলাম

এবার ফেরার পালা। আমরা সৈকতের উপর অনেক দোকান দেখতে পেলাম। সেখানে অনেক দোকান যেগুলো ঝিনুক, মেয়েদের সাজার জিনিসসহ অনেক প্রকার ঘর সাজানোর জিনিস দিয়ে ভরপুর।

 

ছবিঃ মোঃ সোহেল রানা

অবশেষে আবার পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে আবার আসার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করে বিদায় নিলাম।

আমার মোবাইল নম্বরঃ ০১৭১৪৬৯৩৪১৯

আমার সোসাল মিডিয়া  প্রোফাইল লিংক: 

https://lh4.googleusercontent.com/7h43e3VBIDcZOnduEO1mXB0z-5nvwOLPGQnGxrnJz5ssUP0q7ExUK6EkOej2L-SiXWvcpmUrRPzd1ZJf8K724bwVeMJ__0MMds1npgjYZtklUumICE8-VSLS4gHCEqLLyWcVidjhhttps://lh3.googleusercontent.com/kcvZyzzuATb1-b599PzP6Y0OJOH52hVjxj828A6KmbL13876iEzKvom7Odo6Ch7brJvPLBqwJ6J7GHULgOecQ7PRerKS-8_0wqfYDd0lBKiEjZhq8GUQ_wk0bCRWru0QGqvMKc-Xhttps://lh5.googleusercontent.com/7HAu8NFQOwrClANs7VWegmjo3bHQAH25vTuxk4Shcfr5XjdnPDxEN-HgVm80fkPwHcL-24GtHOCV9rlwlRFpcEuvAjzJG97lQvhDLzcmINwi4QC7UWZcFUrDGvKQpSR9RaSBMvs9https://lh5.googleusercontent.com/dv9RvRnOBVHnRvIxmxBsTpVXbZ2Wc1XGEbyfQelAFRLRczTA72qLku2wsF9bCNr6qGVXyzqPFeXMpHyBN8vsqg4Extw1g3v_UXnpaGB_2-bCyyuoYdZ-02jm3pbrGghdU9Ukrdvn


Comments